ইসলাম সত্য হবার ১০০ প্রমাণ (পর্ব ১): কুরআনের চিরন্তন চ্যালেঞ্জ
মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান
ভূমিকা
কোনো ধর্ম সত্য কি না, তা যাচাইয়ের প্রথম পথ হলো তার মূল গ্রন্থ পরীক্ষা করা। ইসলামের মূল ভিত্তি আল-কুরআন। আর কুরআন নিজেই নিজের সত্যতার এমন একটি প্রমাণ পেশ করেছে, যা যেকোনো যুগের যেকোনো মানুষ নিজে পরীক্ষা করে দেখতে পারে। সেটি হলো কুরআনের চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জটি কী?
আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে যদি তোমাদের সন্দেহ থাকে, তবে এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি না পারো, আর কখনো পারবেও না..." (সূরা বাকারা ২:২৩-২৪)
আরও বলেন, "বলুন, যদি সমস্ত মানুষ ও জিন একত্র হয় এই কুরআনের মতো কিছু রচনা করার জন্য, তবুও তারা এর মতো কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরকে সাহায্য করে।" (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৮৮)
লক্ষ্য করুন, কুরআন শুধু চ্যালেঞ্জই দেয়নি, আগাম ঘোষণাও দিয়েছে, "তোমরা কখনো পারবে না।" কোনো মানুষ লেখক নিজের রচনা সম্পর্কে এমন চিরস্থায়ী ঘোষণা দেওয়ার সাহস করে না।
কাদের প্রতি এই চ্যালেঞ্জ?
এই চ্যালেঞ্জ এসেছিল এমন এক জাতির প্রতি, যারা ছিল ভাষা ও কাব্যের শ্রেষ্ঠ সমঝদার। আরবরা বাজারে কবিতার প্রতিযোগিতা করত, শ্রেষ্ঠ কবিতা কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখত। ভাষাই ছিল তাদের গর্ব ও অস্ত্র। তারা নবীজির (সা.) দাওয়াত থামাতে যুদ্ধ করেছে, সম্পদ ব্যয় করেছে, জীবন দিয়েছে। অথচ সবচেয়ে সহজ পথ ছিল, মাত্র তিন আয়াতের একটি ছোট সূরা রচনা করে দেখানো। সেটি তারা পারেনি।
কুরাইশের নেতা ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা কুরআন শুনে স্বীকার করেছিল, এটি কোনো কবিতা নয়, যাদুকরের মন্ত্রও নয়, এর মধ্যে এক অদ্ভুত মাধুর্য ও সৌন্দর্য আছে। ইতিহাসে যারা কুরআনের অনুকরণের চেষ্টা করেছে, যেমন ভণ্ড নবী মুসাইলামা, তাদের রচনা নিয়ে আরবরাই হাসাহাসি করেছে।
যিনি পড়তে-লিখতে জানতেন না
আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই কিতাব যাঁর মুখ দিয়ে এসেছে, তিনি ছিলেন উম্মী, কোনো বিদ্যালয়ে পড়েননি, কারো কাছে লেখাপড়া শেখেননি। আল্লাহ বলেন, "আপনি তো এর আগে কোনো কিতাব পড়েননি এবং নিজ হাতে কোনো কিছু লেখেননি; তেমন হলে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করতে পারত।" (সূরা আনকাবুত ২৯:৪৮)
চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত যিনি কোনো কবিতা বা ভাষণের জন্য পরিচিত ছিলেন না, হঠাৎ তাঁর মুখ থেকে এমন বাণী বের হলো, যার সামনে গোটা আরব জাতি নির্বাক হয়ে গেল। এর একমাত্র যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো, এটি তাঁর নিজের রচনা নয়।
চ্যালেঞ্জ আজও খোলা
চৌদ্দশ বছর পেরিয়ে গেছে। আরবি ভাষায় লক্ষ লক্ষ পণ্ডিত, সাহিত্যিক, এমনকি ইসলামবিরোধী লেখকও এসেছেন। কিন্তু এমন কোনো রচনা কেউ পেশ করতে পারেনি, যাকে ভাষাবিদরা কুরআনের সমকক্ষ বলে মেনে নিয়েছেন। চ্যালেঞ্জ এখনো খোলা, এবং এখনো অপরাজিত।
উপসংহার
একজন সত্যান্বেষী মানুষের জন্য প্রশ্নটি খুব সহজ: যদি কুরআন মানুষের রচনা হয়, তবে মানুষ কেন এর মতো একটি সূরা রচনা করতে পারে না? আর যদি না পারে, তবে এটি মানুষের ঊর্ধ্বের এক সত্তার বাণী। সেই সত্তাই আল্লাহ, আর এই বাণী যিনি পৌঁছে দিয়েছেন, তিনি তাঁর সত্য রাসূল মুহাম্মদ (সা.)।
আগামী পর্বে থাকছে দ্বিতীয় প্রমাণ, ইনশাআল্লাহ।




