রাত জাগা পাঠক
ফয়জুল্লাহ আমান
রাত জাগলে স্বাস্থ্য নষ্ট হতে পারে
পেটে সমস্যা হতে পারে
চোখে ঝাপসা দেখতে পারি
হতে পারে মাথাব্যথা
বা আরও কোনো ব্যাধি
তবু রাত জাগি
প্রতিটি মিনিট জেগে থাকি
কালো হরফে তাকিয়ে।
ফজরের আজান হয়
মসজিদে যাই ব্যাটারিচালিত সাইকেল চালিয়ে।
শুনশান পথ,
একেবারে নির্জন ঠিক নয়।
কোরিয়ার কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকরা
কিছু কিছু কর্মস্থলে যায়।
এই এত ভোরে
পাখিরাও ঘুম থেকে ওঠেনি।
আমার একাকী সাইকেল
রাতজাগা পাঠককে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দু-একটা গাড়ি হঠাৎ চোখে পড়ে।
গাড়িতে এই ভোরে কোনো শিল্পপতি
বা কারখানার মালিক নয়,
আরাবাইত কাজের খোঁজে কিছু দরিদ্র শ্রমিক।
আমার চোখে এসব দৃশ্য নেই।
আমি কয়েক হাজার বছর আগের পৃথিবীর পথে।
সারা রাত বইয়ের পাতায়
নির্বাক হরফ আমার চোখে প্রাণ ফিরে পায়।
জোসন, কোরিও, শিলা রাজবংশের লোকেরা
আমার চারপাশে ভিড় করে।
মাঞ্চুরিয়া, বেইজিং ও টোকিও,
পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে
প্রাচীন কনফুসিয়াস হয়ে বা বুদ্ধ হয়ে,
রাতজাগা পাঠক
চীনে তৈরি ব্যাটারিচালিত সাইকেল চালিয়ে
হান নদীর তীর ধরে এগিয়ে যায়
নিভৃত নীরবে।
১৭ অক্টোবর ২০২৪
সম্বুদং, দক্ষিণ কোরিয়া


