সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পাকিস্তান চুক্তিটির অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন গুরুত্ব বহন করছে।
২০২৬ সালের ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য বহিঃআক্রমণ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিধান অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত দেশকে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এর আগে চুক্তিটিকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়; বরং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর উদ্দেশ্য।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিন দেশ চুক্তির আওতায় সহযোগিতার কাঠামো আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে চুক্তির আওতায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া চুক্তির অধীনে একটি সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তুরস্ক ২০ অক্টোবর চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য দেশটির পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে। ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো এগিয়ে গেলেও প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া এবং চুক্তির কার্যকর হওয়ার শর্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




