দেজন থেকে ২৩ কোরীয় খ্রিস্টানের আনসান মসজিদ পরিদর্শন, ইমাম মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের সঙ্গে আন্তধর্মীয় সংলাপ

দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি:

দক্ষিণ কোরিয়ার আনসান মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শন করেছেন দেজন শহর থেকে আসা ২৩ জন কোরীয় খ্রিস্টান। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তাঁরা মসজিদে পৌঁছান। এ সময় তাঁরা আনসান মসজিদের ইমাম মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে দলটির সদস্যরা ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আলোচনায় ইসলামের দৃষ্টিতে হজরত ঈসা (আ.)-এর পরিচয়, তাঁর পুনরাগমন এবং এক আল্লাহর ইবাদতের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

আলোচনার একপর্যায়ে দলের একজন তরুণী মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের কাছে জানতে চান, শেষ জামানায় যিশু আবার পৃথিবীতে ফিরে এলে মুসলিমরা কি তাঁর উপাসনা করবে?

জবাবে মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, “ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত ঈসা (আ.) আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তবে মুসলিমরা তাঁকে উপাস্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর নবী ও রাসুল হিসেবে মানে। ইসলামে ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। ঈসা (আ.)-এর প্রত্যাবর্তনের পরও ইবাদত একমাত্র আল্লাহরই থাকবে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি কুরআনের বিধান অনুসারে বিচার করবেন।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ইসলামের দৃষ্টিতে হজরত ঈসা (আ.) নিজেও এক আল্লাহর ইবাদত করতেন। তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কিত ইসলামী বিশ্বাস বুঝতে হলে ঈসা (আ.)-এর নবুয়ত, আল্লাহর একত্ববাদ এবং কুরআনের প্রতি ইসলামের বিশ্বাস সম্পর্কে জানা জরুরি।

আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথিরা এসব বক্তব্য শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা করেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই সাক্ষাতে উভয় পক্ষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনা শেষে অতিথিদের জন্য হালকা নাশতার আয়োজন করা হয়। পরে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করে মসজিদ ত্যাগ করেন।

আনসান মসজিদে এ ধরনের পরিদর্শন ও মতবিনিময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, ধর্মীয় বোঝাপড়া এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করছে। ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক আলোচনার মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস তুলে ধরাই এ ধরনের সংলাপের অন্যতম গুরুত্ব।

দাওয়াহ টুয়েন্টিফোর | দক্ষিণ কোরিয়া