আনসান, দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার আনিয়াং ও শিহং শহর থেকে প্রায় ৪০ জন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থী শনিবার (২৪ অক্টোবর) আনসান মসজিদ পরিদর্শন করেছে। শিক্ষাসফরের অংশ হিসেবে আসা দলটির সঙ্গে ছিলেন তাদের শিক্ষকেরাও।
মসজিদে অতিথিদের স্বাগত জানান ইমাম মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিলেও শুরুতে তারা কিছুটা লাজুক ছিল। পরে তারা মুসলমানদের নামাজ, মক্কা এবং মুসলিমরা কেন শুকরের মাংস খান না, এমন নানা বিষয়ে জানতে চায়। সফর শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে কোরিয়ান ভাষায় ইসলাম পরিচিতি পুস্তিকা তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে একজন শিক্ষক জানতে চান, তাঁর স্বপ্ন কী, তিনি কি চান একদিন পুরো কোরিয়ার মানুষ মুসলিম হয়ে যাক।
জবাবে ইমাম মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, নিকট ভবিষ্যতে এমন কিছু তিনি আশা করেন না। তাঁর চাওয়া, কোরিয়ায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করুক এবং সবাই একে অপরকে জানুক। তিনি বলেন, "আমাদের দূরত্বগুলো তৈরি হয় কারণ আমরা একে অপর সম্পর্কে কিছুই জানি না। জানাশোনার পর কেউ যদি নিজের উপলব্ধি থেকে ধর্ম পরিবর্তন করতে চায়, সে স্বাধীনতা তার থাকা উচিত। আর কেউ আমাদের ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে আমরা অবশ্যই তাকে স্বাগত জানাব।"
দলটির সঙ্গে ছিলেন একজন পাকিস্তানি গাইড, যিনি বহু বছর ধরে কোরিয়ায় পর্যটক গাইড ও দোভাষী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, কোরিয়ার তরুণ সমাজের অনেকে ইসলামকে ভয় পায়, আর এই ভয় দূর করা দরকার।
ইমাম ফয়জুল্লাহ আমান মনে করেন, ভয়ের মূলে থাকে অজানা, আর জানাশোনা বাড়লে ভয় ও দূরত্ব দুটোই কমে। তাঁর ভাষায়, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয়েরও জায়গা হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন সফর আরও হবে, কোরিয়ার মানুষ ইসলাম সম্পর্কে জানবে এবং মুসলমানেরাও তাদের প্রতিবেশী ও সমাজকে আরও ভালোভাবে জানবে।





