মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে। সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের দাম্মামের কাছে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আটজন আহত হন। পরে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
ইয়েমেনের বর্তমান সংকটের শিকড় দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ২০১৪ সালে হুথি আন্দোলন রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে। অন্যদিকে ইরান হুথি আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও যুক্ত হয়েছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সীমান্তবর্তী হামলা অনেকটা কমে এসেছিল। তবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হওয়ায় সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর হয়নি।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ ৯ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জানান, ইয়েমেনের একাধিক যুদ্ধফ্রন্টে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। তায়েজ, মারিব, আল-জাওফ ও হাজ্জাহসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছে। নতুন করে সংঘাত বাড়লে মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নৌপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাহাজ চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন আরও বাড়তে পারে। তাই সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।




