দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক প্রহার ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রণকারী বৃহত্তম শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ (বেফাক)। এ বিষয়ে নির্দেশ অমান্য করলে কিংবা প্রশাসনিক অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ইলহাক (স্বীকৃতি বা অধিভুক্তি) বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বোর্ডটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খাঁন নদভী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চার ধারার অধীনে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়।
মানতে হবে যে চার নির্দেশনা
১. শাসনের সীমা ও নির্দেশাবলী: শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও কল্যাণ; রাগের মাথায় কোনো বিচার বা সাজা দেওয়া যাবে না। মনোযোগের অভাব বা উশৃঙ্খলতার ক্ষেত্রে প্রহার না করে অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। হাত-পা, লাঠি, বেত, স্কেল বা কোনো বস্তু দিয়ে শারীরিক আঘাত এবং জনসমক্ষে অপমান, কটু ভাষা বা মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. আত্মশুদ্ধি কার্যক্রম: তাযকিয়া ও আত্মশুদ্ধি অর্জনকারী শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য নিয়মিত ইসলাহি মজলিসের আয়োজন করা এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনার পাশাপাশি অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৩. শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা: আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশুর সুরক্ষায় দায়িত্বশীলদের বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। প্রয়োজনে ২-৩ জনের তদারকি টিম গঠন, ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পাদন এবং অন্যায়ের ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৪. নিয়োগ ও তত্ত্বাবধানে সতর্কতা: প্রার্থীর অতীত রেকর্ড, চরিত্র ও নৈতিকতা যাচাই না করে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে না। পূর্বে নৈতিক স্খলনে জড়িতদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষার্থীদের তদারকিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও একাধিক দায়িত্বশীলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বেফাক জানিয়েছে, এসব নির্দেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বা কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




