নেতানিয়াহু মুসলমানদের অনেক উপকার করেছেন!
কথাটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আমার ভাবনাটা একটু ভিন্ন। নেতানিয়াহু আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থাকুক, এমনকি তার দল নির্বাচনে জয়ী হোক, এমনটাও আমি চাই। কারণ, নিজের জুলুম, ঔদ্ধত্য ও অহংকার দিয়ে সে নিজেই বিশ্ববাসীর সামনে ইসরায়েলের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করেছে।
বনি ইসরাইলের নেতাদের ইতিহাসে নেতানিয়াহুর মতো নিকৃষ্ট শাসক আর এসেছে কি না, তা ইতিহাসবিদেরা বিচার করবেন। তবে ফিলিস্তিনে তার সরকারের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বব্যাপী মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
জাতিসংঘের মঞ্চে হোক কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো ফোরামে, নেতানিয়াহুকে কথা বলতে দেখলে আমার ভেতরে যে ক্ষোভ তৈরি হতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার মতো বিশ্বের অসংখ্য মানুষের বিবেক নাড়া দিয়েছে তার এই আচরণ। ফিলিস্তিনের মানুষের ওপর নিপীড়ন যত প্রকাশ্যে এসেছে, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ততই জোরালো হয়েছে।
তাই আমি তার দ্রুত পতন দেখতে চাই না। কারণ একজন জালিম যত বেশি ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়, নিজের পতনের উপকরণ সে তত বেশি নিজেই তৈরি করে। তার রাজনৈতিক সাফল্য যদি তাকে আরও উদ্ধত করে তোলে, তাহলে সেই ঔদ্ধত্যই একদিন তার এবং তার জুলুমের ব্যবস্থার পতনের কারণ হবে।
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সা. বলেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ»
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর ছাড়েন না।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৮৬)
এই হাদিস বর্ণনার পর রাসূলুল্লাহ সা. তিলাওয়াত করেন:
﴿وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ﴾
অর্থ: আর তোমার রবের পাকড়াও এমনই, যখন তিনি জুলুমে লিপ্ত জনপদগুলোকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, কঠিন।
(সূরা হুদ: ১০২)
জালিমের হাতে ক্ষমতা থাকা মানেই সে সফল, এমন নয়। অবকাশ পাওয়া মানেই মুক্তি নয়। নিজের জুলুমের বিস্তার ঘটাতে গিয়েই জালিম অনেক সময় নিজের পতনের পথ প্রশস্ত করে।
আল্লাহ ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষদের সাহায্য করুন, তাদের ওপর থেকে জুলুম দূর করুন এবং পৃথিবীর সব জালিমকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করুন। আমিন।
ইমাম ফয়জুল্লাহ আমান




